সকাল ও সন্ধ্যা একজন মুমিনের জন্য আল্লাহকে স্মরণ, তাঁর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন দোয়া ও জিকির পড়তেন এবং সাহাবিদেরও এসব আমলের শিক্ষা দিয়েছেন। এসব আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ওপর ভরসা, ক্ষমা প্রার্থনা ও তাঁর হিফাজত কামনা করতে পারে।
সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে এটি পড়বে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতের অধিবাসী হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩০৬)
সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানি ওয়া আনা ‘আব্দুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী। ফাগফির লি, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তা স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই।
সকাল-সন্ধ্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির হলো ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এটি পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে কেউ আসতে পারবে না—তবে যে ব্যক্তি তার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি আমল করেছে, সে ব্যতিক্রম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯২)
আরবি: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।
বিচ্ছু বা অন্যান্য ক্ষতিকর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি পড়বে—
আরবি: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।
অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাই।
তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় কোনো ক্ষতিকর সৃষ্টির অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৯)
সকাল-সন্ধ্যায় নিজের দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটিও পড়তেন—
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়াদুনইয়াইয়া, ওয়া আহলী ওয়া মালী। আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তী। আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্তী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের জন্য ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। আমার গোপন ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং আমার ভয়-উদ্বেগকে নিরাপত্তায় পরিণত করুন। আমার সামনে, পেছনে, ডানে, বামে ও ওপর থেকে আমাকে হিফাজত করুন। আর আপনার মহত্ত্বের আশ্রয় চাই নিচ থেকে আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হওয়া থেকে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭৪)
সকাল ও সন্ধ্যায় সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পড়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আরও একটি দোয়া রয়েছে।
সকালে:
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহ্না, ওয়াবিকা আমসাইনা, ওয়াবিকা নাহ্ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকাল নুশূর।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার অনুগ্রহে আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, আপনার অনুগ্রহে সন্ধ্যায় উপনীত হই। আপনার দ্বারাই আমরা বেঁচে থাকি এবং আপনার দ্বারাই মৃত্যুবরণ করি। আপনার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।
সন্ধ্যায়:
اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা আসবাহ্না, ওয়া বিকা নাহ্ইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার অনুগ্রহে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আপনার অনুগ্রহে সকালে উপনীত হই। আপনার দ্বারাই আমরা বেঁচে থাকি ও মৃত্যুবরণ করি। আপনার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৬৮; তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৯১)
এ ছাড়া ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু…’ জিকিরটি সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ আমল। দিনে ১০০ বার পড়ার ব্যাপারে সহিহ হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এতে একত্ববাদের ঘোষণা, আল্লাহর রাজত্ব ও প্রশংসা এবং তাঁর সর্বশক্তিমান হওয়ার স্বীকৃতি রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৪০)
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সকাল-সন্ধ্যায় ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিস…’ দোয়াটিও পড়া যায়। এতে আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া এবং নিজের সব বিষয় সংশোধনের প্রার্থনা করা হয়।
আরবি: يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغيثُ أَصْلِحْ لِي شَأْنِيَ كُلَّهُ وَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যূমু বিরহ্মাতিকা আস্তাগীসু, আসলিহ্ লী শা’নী কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন।
অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের মাধ্যমে আমি আপনার কাছে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং আমাকে এক

