Friday, September 18

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমনের স্মরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে এই দিনে মহানবী (সা.)-এর শুভাগমন ঘটে।

নবীজির বাবা আবদুল্লাহ ও মা আমিনা। তাঁর শুভাগমনের আগেই বাবা ইন্তেকাল করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন। পরবর্তী সময়ে মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে আসেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাত ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করবেন। অনেকে এ দিনে নফল রোজাও রাখেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল, জশনে জুলুস, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে আজ রাষ্ট্রীয় ছুটি। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কদ্বীপ ও লাইট পোস্টে জাতীয় পতাকা ও কালিমা তায়্যিবা অঙ্কিত ব্যানার টানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি মহানবী (সা.)-এর শুভাগমনকে মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাঁর বাণীতে বলেন, পবিত্র এই দিনে বিশ্বজগতে এক সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের আবির্ভাব হয়। তাঁর শুভাগমনে সারা দুনিয়ায় রহমতের অবারিত দ্বার উন্মোচিত হয়।

এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশবরেণ্য আলেম-ওলামা এসব অনুষ্ঠানে বয়ান করবেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, সেমিনার, কবিতা পাঠের আয়োজন, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1