Saturday, August 15

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা কেবল একটি দিন নয়, বরং সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও আত্মমর্যাদার এক অবিনশ্বর প্রতীক। ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে প্রিয়নবী ﷺ–এর দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সর্দার ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। কারবালার সেই মহান আত্মত্যাগ যুগে যুগে মানবতার জন্য সত্যের মানদণ্ড হয়ে আছে। অত্যাচার, জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়েছে কারবালা। তাই আশুরা মুসলিম বিশ্বের কাছে শোক, শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও আদর্শের এক মহিমান্বিত স্মারক।

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) থেকে নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম গণনা শুরু হয়েছে।

সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা শেষে কমিটি নিশ্চিত করে যে দেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে ১৭ জুন থেকে ১৪৪৮ হিজরি সনের গণনা শুরু হয়েছে এবং ১০ মহররম অর্থাৎ পবিত্র আশুরা পালিত হবে ২৬ জুন, শুক্রবার।

আশুরার তাৎপর্য

‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘দশ’। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণে আশুরা মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফিরআউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়ার স্মৃতিবিজড়িত দিন হিসেবে আশুরা ইসলামী ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।

একই সঙ্গে কারবালার হৃদয়বিদারক শাহাদাত আশুরাকে মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাবিধুর ও শিক্ষণীয় দিনগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ মানবতার জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

আশুরার রোজা রাখার নিয়ম

পবিত্র আশুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নফল রোজা পালন করা।

হাদিসে আশুরার রোজার সঙ্গে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার নির্দেশনা এসেছে, যাতে মুসলমানদের আমল অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে স্বতন্ত্র থাকে।

সে অনুযায়ী—

  • ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা উত্তম।
  • অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা যায়।

অতএব, আশুরার সুন্নত অনুযায়ী রোজা রাখতে চাইলে ২৫ ও ২৬ জুন অথবা ২৬ ও ২৭ জুন—এই দুই দিন রোজা রাখা যেতে পারে।

নতুন হিজরি বছরের সূচনা

মহররম মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮ সনের সূচনা হলো। নতুন বছরের শুরুতে আল্লাহর কাছে তাওবা, আত্মশুদ্ধি, নেক আমল বৃদ্ধি এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা অনুসরণের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।

পবিত্র মহররম ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। তাই এ মাসে ইবাদত-বন্দেগি, নফল রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং আল্লাহর স্মরণে অধিক মনোযোগী হওয়ার প্রতি মুসলমানদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে আগামী ২৬ জুন ২০২৬ (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা, ইবাদত, দোয়া, তওবা এবং নেক আমলের মাধ্যমে দিনটি পালন করবেন। একই সঙ্গে কারবালার মহান শাহাদাতের শিক্ষা থেকে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে অবিচল থাকার অঙ্গীকারও নবায়ন করবেন।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 4 = 5