ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ১০ম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের বাহিনী পরিচালিত এই অভিযানে ‘খায়বার’ নামের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিমান বাহিনীর কমান্ডারের বাসভবন।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে রহস্য ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার ইরান ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা হামলা শুরু করে। সোমবার পর্যন্ত ইরান অন্তত দশ দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও।
দশম দফার হামলাটি আগেরগুলোর তুলনায় বেশি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘খায়বার’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা সংঘাতকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অধিকৃত এলাকাগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বা অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে।

