Saturday, April 18

ভোলা, ১৫ এপ্রিল — বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞায় ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত সাগরগামী জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন এবং মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন জেলে রয়েছেন।

সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগেই জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন। কেউ কেউ ট্রলার নিরাপদ স্থানে রেখে জাল মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। ⚓

জেলে রিয়াজ ও রাকিব মাঝি বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে আগেই সাগর থেকে ফিরে এসেছি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞায় পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছি। অন্য কোনো কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হবে।

মো. ফারুক ও হাসান মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তার চাল দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে বন্ধেরও দাবি তোলেন।

অন্যদিকে কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানলেও ভারতের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। তারা এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি চান। 🚤

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 1