আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিএনপির রাজনীতিতে দুই কিংবদন্তি নেতা—কে এম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ—দক্ষিণবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় তাদের প্রয়াণের পর সেই শূন্যস্থান পূরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তাদের উত্তরসূরি দুই কন্যা।

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়)। অপরদিকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। দুজনেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম

শামা ওবায়েদ ইসলামের বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান দক্ষিণবঙ্গের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০ সালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে সত্তরের দশকের শেষ দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
তিনি দলটির হয়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং একবার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

বিজয়ের পর শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণ যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চান।

নায়াব ইউসুফ আহমেদ

ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের বাসিন্দা নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তাঁর বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুরে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন নায়াব ইউসুফ। বিজয়ের পর তিনি বলেন, ফরিদপুর সদরকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবেন। বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত উন্নয়নের ফরিদপুর গড়াই হবে তার লক্ষ্য।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরে এই দুই নারী নেত্রীর বিজয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
6 + 2 =