ঢাকা || আরিফুর রহমান

ইনসানিয়াত বিপ্লব কোনো আসনের রাজনীতি করে না; বরং মানবতার রাজনীতির উদয় ঘটাতে কাজ করছে—এমন মন্তব্য করেছেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের চেয়ারম্যান। গুলশানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দলের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনী অংশগ্রহণ আসন লাভের জন্য নয়; মানুষকে মানবতার রাজনীতি ও মানবতাবিরুদ্ধ স্বৈররাজনীতির দুই বিপরীত ধারা বোঝানো এবং শাহাদাতে কারবালার আমানতের উত্তরাধিকার জারি রাখাই এর লক্ষ্য।

চেয়ারম্যান বলেন, “আমরাও জানি, ইনসানিয়াত বিপ্লব কোনো আসন পাবে না। কারণ আপেলকে ভোট দিতে হলে মানবিক ও ঈমানী মানুষ হতে হয়—যে কোনো ধর্মের মানুষই হোক, স্রষ্টার বিধান হিসেবে সবার সমান নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকারভিত্তিক বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্রের ধারক হতে হয়; যা বর্তমান দুনিয়ায় অনুপস্থিত।”

তিনি আরও বলেন, ইনসানিয়াত বিপ্লবকে ভোট দিতে হলে বস্তুবাদমুক্ত হতে হবে এবং ভোটের সঙ্গে যুক্ত সত্য-মিথ্যা, জীবন-মরণ, ন্যায়-অন্যায়, সুবিচার-অবিচার, খেলাফতে ইনসানিয়াত বনাম একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা—এই দুই বিপরীত ধারাকে উপলব্ধি করতে হবে। তাঁর ভাষায়, চলমান সময়ে এই বোধ খুব কম মানুষের মধ্যেই রয়েছে।

ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ ও বস্তুবাদী জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, এসব ধারা সব মানুষের অধিকার স্বীকার করে না এবং মানবতার রাষ্ট্র মানে না। ফলে কোনো অধর্ম উগ্রবাদী বা বস্তুবাদী অমানুষ মানবতার রাজনীতি তথা ইনসানিয়াত বিপ্লবকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেন, মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার রাজনীতিকে ভোট দিতে হলে ধর্মের মানবিক মূল্যবোধের ধারক মানবিক মানুষ প্রয়োজন—যা এ দুনিয়ায় বিরল। “ইনসানিয়াতকে ভোট দিতে হলে ইনসান লাগে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ বস্তুবাদী মতবাদের ধারক কিংবা ধর্মের নামে অধর্মের পথে—যাদের গন্তব্য খেলাফতে ইনসানিয়াত নয়, বরং মুলুকিয়ত।

তবুও সব জেনেই আপেল ঈদে আজম ও শাহাদাতে কারবালার পতাকা চিরদিন উড্ডীন রাখবে বলে ঘোষণা দেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আপেলের প্রতিটি ভাই-বোন শাহাদাতে কারবালার আমানতের চির অনির্বাণ মশাল ও চিরপ্রবাহমান পতাকা হয়ে তাওহীদ-রেসালাত ও খেলাফতে ইনসানিয়াতভিত্তিক জীবনচেতনার দিশারী বাতিঘর হিসেবে বেঁচে থাকবে।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব তাওহীদ-রেসালাতভিত্তিক চেতনার সঙ্গে নাস্তিক্যউদ্ভূত বস্তুবাদী মতবাদের আদর্শিক যুদ্ধ; এটি ধর্মের আসল ধারার সঙ্গে ধোঁকার নামে মুয়াবিয়া-ইয়াজিদ চক্রের যুদ্ধ; এবং খেলাফতে ইনসানিয়াত বনাম একক গোষ্ঠীবাদী স্বৈররাজনীতি ও স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যকার লড়াই।

শেষে চেয়ারম্যান বলেন, “এ সময়েও সত্য ও মানবতার চিরন্তন ধারা বেঁচে আছে। আমরা হকের বিশ্বস্ত আপনজন—ইনসানিয়াত বিপ্লব কোনো বাতিল বা বাতিলের মুলুকিয়তের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি, করবেও না। তাওহীদ-রেসালাত ও আহলে বাইতের সঙ্গে বেঈমানি নয়—এই ঈমানি প্রতিজ্ঞার প্রাণপণ শপথই ইনসানিয়াত বিপ্লব।”

Leave A Reply


Math Captcha
2 + 6 =