ডেস্ক রিপোর্ট:
বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তর সালে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। যারা তখন পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করেছিল, তারা আজ ভোটের রাজনীতিতে নেমেছে। কিন্তু তারা কখনো তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি। সেই অবৈধ শক্তির হাতে দেশকে তুলে দেওয়া যায় না। তারা দেশের জন্যও নিরাপদ নয়, মানুষের জন্যও নিরাপদ নয়।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে একটি ইসকন মন্দিরের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সনাতন ধর্মসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবাই আগে বাংলাদেশি। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু—এ ধরনের বিভাজনের কোনো জায়গা নেই।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পরও বাংলাদেশে সাম্য, সত্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তবে তার ধর্ম ও পারিবারিক শিক্ষা তাকে শিখিয়েছে—সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করতে। মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।

ইসকন ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ সবার। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সামনে নির্বাচন—ভয় পেলে চলবে না। সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। বাংলাদেশকে এমন কারও হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের হাতে দেশ ও জনগণ নিরাপদ নয়।

বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচন হয়তো তার জীবনের শেষ নির্বাচনও হতে পারে। এ সময় তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও ইসকন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 62 = 66