Thursday, November 5

ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা কয়েক দফায় দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত এই নেত্রী নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথাও জানিয়েছেন। তবে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়।

প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথে বড় বাধা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর পাশাপাশি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে রয়েছে আইনি জটিলতাও।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় একাধিকবার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারত এখনো এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের কারও কারও ধারণা, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।

দেশে ফেরার আরেকটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস নেওয়া। তবে এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনার কথা বলছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শেখ হাসিনা পরিবার ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও ঠিক করে রেখেছেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। দলটির নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসছে, তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও আলোচনা তত বাড়ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
1 + 9 =