Saturday, October 31

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনের বিজয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে ভোট পাওয়ার দিন শেষ। জনগণের কাছে দলটিকে আর ইসলামিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শুরুতে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো, জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন।’

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের ধর্মীয় পরিচয় ও নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দলটির মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন।

জামায়াতের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, দলটির নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে দেখা এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার কৌশল নিয়েও জামায়াতের সমালোচনা করেন তিনি।

পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের এক আইনজীবী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ভারতের বিষয়ে দলটির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর প্রশ্ন, নিজেদের নেতাকর্মীদের ধর্মীয় পথে পরিচালিত করতে যে দল হিমশিম খাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন, সেই দল কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে?

মুফতি আব্দুল মালেকের বক্তব্য টেনে মন্তব্য

ইসলাম নিয়ে জামায়াতের অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের নাম উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, জামায়াত সম্পর্কে মুফতি আব্দুল মালেক বলেছেন, যারা দলটিতে যোগ দেবেন, তাঁরা পথভ্রষ্ট হবেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে জামায়াতের দেখানো ‘জান্নাতের পথ’ নিয়েও কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি মুফতি আব্দুল মালেকের সমালোচনার জবাবে আমির হামজা ও তারেক মনোয়ারের মতো বক্তাদের ব্যবহার করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের পক্ষে পোস্টে আলাদা কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি রাশেদ খাঁন।

শরিয়াহ আইন নিয়ে প্রশ্ন

স্ট্যাটাসের শেষাংশে জামায়াতের শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি লেখেন, বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে যদি দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’—তাহলে সেই দলকে ইসলামী দল বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রাশেদ খাঁনের এসব মন্তব্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
60 + = 64