Tuesday, October 27

রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় তিনি বলেছেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। কখন, কোথায় এবং কী অবস্থায় তিনি থাকেন—তা নিশ্চিত হয়েই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার রাতে মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়ায় আসিফ আকবর বলেন, ‘আমার শত্রু কারা হইতে পারে, এটা আমি জানি না। কিন্তু মাইরা ফেলার মতো কাজ আমি করছি, এটা মনে করি না।’

গাড়িতে ছিলেন না আসিফ

শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। তাঁর চালকও গাড়িতে ছিলেন না।

গাড়ির চালকের পেছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।

আসিফ আকবরের ধারণা, হামলাকারীরা তাঁর প্রতিদিনের রুটিন সম্পর্কে জানত। তিনি বলেন, ‘যে বা যারা এই কাজটা করেছে তারা দীর্ঘদিন আমার গতিবিধি রেকি করেছে। তাদের স্টাডি আছে। তারা জানে আমি ঠিক ওই সময়, ফজরের নামাজের পরপর উপর থেকে নিচে নামি। আমি কোন দিক দিয়ে যাই। আমার শরীরের উচ্চতা কী। কারণ তারা গুলিটা যেখানে করছে, ঠিক আমার মাথা বরাবরই করছে।’

ছেলের ফোনে বেঁচে গেলেন?

হামলার সময় গাড়িতে না থাকার পেছনে বড় ছেলের একটি ফোনকলকে সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন আসিফ আকবর।

তিনি বলেন, বের হওয়ার আগে কানাডা থেকে তাঁর বড় ছেলে ফোন করেছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে ছেলে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাবে জানিয়ে পাঁচ মিনিট পর আবার ফোন করার কথা বলে। ছেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। পরে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২৭ মিনিট পর নিচে নামেন।

আসিফ আকবর বলেন, ‘আজ সৌভাগ্যবশত বের হওয়ার আগে আমার বড় ছেলে কানাডা থেকে ফোন দিয়েছে। … কথা বলে আরও ২৭ মিনিট পরে নেমেছি।’

তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী তিনি ভোরে একাই বের হন। ওই দিনও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি ছেলেকে কোচিংয়ে যেতে দেখেছিলেন।

‘আমাকে মেরে ফেলবে—এমন কোনো কাজ আমি করি নাই’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যের কারণে শত্রু তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন আসিফ আকবর।

তিনি বলেন, অন্যায় মনে হলে তিনি তা প্রকাশ্যে বলেন বা লেখেন। কে কত বড় বা শক্তিশালী—তা তিনি বিবেচনা করেন না। এ কারণে কারও কারও সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

আসিফ আকবর বলেন, ‘আমি আসলে ফেসবুকে খুব একটা আউটস্পোকেন ছিলাম। আসলে যেটা অন্যায় মনে হয়, সেটাই বলি। … তো এ জন্য হয়তো কিছু এনিমি জন্মাতে পারে। কিন্তু মেরে ফেলার মতো কিছু আমি কাজ করি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা কষ্টদায়ক আমার জন্য যে বাংলাদেশে আমাকে কেউ মেরে ফেলবে।’

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বন্ধ রেখেছেন

হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়েও পরিবর্তন এনেছেন বলে জানান আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন শুধু ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছেন।

তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৪০ দিন ধরে তিনি এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রেখেছেন। তবে এবার সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় বিষয়টি আরও গুরুতর বলে মনে করছেন তিনি।

আসিফ আকবর বলেন, ‘গুলিটা এমনভাবে করেছে, বোঝা যায় আমাকে মারতেই আসছিল। পরিকল্পনাটা ওই রকমই ছিল। ফরচুনেটলি বেঁচে গেছি।’

মামলা করবেন আসিফ

গুলির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—জানতে চাইলে আসিফ আকবর বলেন, ‘এই ঘটনায় একটা মামলা করব। এটা তো নেওয়াই উচিত।’

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগের দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে এক ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

বিশাল সেন্টার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave A Reply


Math Captcha
4 + 3 =