ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আসিফ মাহমুদ আগে কুমিল্লার মুরাদনগরের ভোটার ছিলেন। সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি ঢাকার ধানমণ্ডির ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি।
এরপর গত মার্চে এনসিপি ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের নাম জানানো হয়।
তবে সম্প্রতি ধানমণ্ডির ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম সরিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগরে ভোটার হয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বিষয়টি সামনে আসার পর এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে তার আবেদন অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ আসনের ভোটার।
গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসন থেকে এনসিপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের কাছে প্রায় ৫ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি।
এনসিপির একাধিক সূত্রের দাবি, ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণেই দুই নেতা নিজ নিজ সম্ভাব্য নির্বাচনী এলাকার ভোটার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বলেন, সম্প্রতি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে দক্ষিণে পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদকে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। দলীয় নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মাঠের বাস্তবতা ও বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় মেয়র প্রার্থীর তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তরুণ ও জেনারেশন জি ভোটারদের সম্পৃক্ততা তুলনামূলক বেশি। ঢাকার উত্তর এলাকায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও দলের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন রয়েছে।
অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ ঢাকা-৮ কেন্দ্রিক। সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও ঢাকা দক্ষিণে তার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করছেন দলের নেতারা।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে এনসিপির সম্ভাব্য নতুন কৌশলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন। দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত, প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছেন। ফলে এনসিপি দক্ষিণে পাটওয়ারী এবং জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করলে দুই দলের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে প্রায় ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাদের নাম সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও সাংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে। দেশের প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দলটি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজ চলছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীদের নাম চলতি মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

