Friday, November 6

আগের সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারকে বিদায় করার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন নয়; তবে বর্তমান সরকার যদি নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিদায়ের পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে তাদের কিছু করার নেই।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফায় সমাজের সব স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কথা বলেছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন—এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্র নাকি ফ্যাসিবাদ—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও সরকারি দল উভয়েই জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, অতীতে কোনো সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যে সরকার টিকবে কি না—এমন প্রশ্ন এতটা জোরালোভাবে ওঠেনি। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষের মুখে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অলি আহমদ দাবি করেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে একমাত্র ১১ দলীয় জোট। বিএনপির অতীত শাসনামল ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর বিএনপি পরপর তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং বর্তমানে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখার পেছনে ভারত, সরকারি কর্মকর্তা, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপি জড়িত—এমন অভিযোগও করেন অলি আহমদ। তার দাবি, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও নারী নির্যাতনের সুযোগ থাকবে না।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ছয় মাসে এক লাখ মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাবি করে অলি আহমদ বলেন, বাস্তবে উল্টো ছয় মাসে এক লাখ মানুষ বেকার হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় উপেক্ষা করার প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা না হলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

গণভোটকে ‘কমিটমেন্ট’ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, এই প্রতিশ্রুতি বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট জনগণকে দিয়েছিল। বিএনপির কোনো কোনো নেতা গণভোটের রায় নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে দলটির বর্তমান অবস্থানের বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন—আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যা নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না হলে সরকারের উচিত তা জনগণের কাছে স্বীকার করা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া এককভাবে দেশ পরিচালনা করা কঠিন। তাই এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে স্বৈরাচারকে আবারও ফিরে আসার সুযোগ না দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেন তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
55 − = 51