ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা, মারধর, নির্জন কারাবাস এবং কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা বন্দিকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস।
সংগঠনটির তথ্যমতে, গত ৭ ও ৮ অক্টোবর এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৭ জন নারী বন্দিকে চুল পরীক্ষার জন্য হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তাঁদের চুলের বেণি খুলে ফেলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, নারী বন্দিদের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া কারাগারের বিভিন্ন কক্ষ ও গোসলখানায় কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে ও রাসায়নিক উত্তেজক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এতে কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট, বমি ও তীব্র শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। এক বন্দি হাঁটতে না পারায় অন্যদের সহায়তায় তাঁকে সরিয়ে নিতে হয়।
সংগঠনটি এসব আচরণকে বন্দিদের মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শারীরিক নিরাপত্তার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর ফিলিস্তিনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি জানায়, ইসরাইলের কারাগারে ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নারী আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জন প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় রয়েছেন। এ ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বা বিচার ছাড়াই কাউকে আটক রাখা যায়।
সংগঠনটির অভিযোগ, নারী বন্দিদের মধ্যে নির্জন কারাবাস, দুর্ব্যবহার, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং খোসপাঁচড়ার মতো চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও রয়েছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওয়িল প্রায় ৫০ দিন ধরে নির্জন কারাবাসে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, তিনি মারধর, পিপার স্প্রে দিয়ে হামলা ও অবমাননাকর আচরণের শিকার হয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর তাঁর প্রশাসনিক আটকাদেশ আরও চার মাসের জন্য নবায়ন করা হয়।
প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস নারী বন্দিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং কারাগারের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: সাফা নিউজ।

