বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠককে ঘিরে অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের বাজারে এ প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে নেমেছে।
ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএর প্রধান নির্বাহী ও সম্পদ ব্যবস্থাপক বাস কুইজম্যান বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের দাম আরও চাপের মুখে থাকতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ বজায় থাকার পাশাপাশি কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশাও বাড়ছে।
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, চলতি অক্টোবরে ফেড সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে হার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদবাহী সম্পদের তুলনায় স্বর্ণে বিনিয়োগের সুযোগব্যয় বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক মনে করেন, বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের পছন্দের সূচক এটি।
এদিকে বুধবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্টে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০ ডলার ৮৪ সেন্টে নেমেছে।

