Thursday, October 22

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ মঙ্গলবার দেশটির সংসদে জমা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে সহযোগিতা করবে অন্য সদস্যরা।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাটো জোটের চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো এতে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ সংগ্রহ করেছে। এতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হুমকির মুখে পড়লে সেই হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহার করবে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে অন্য সদস্যরা।

সহায়তার ধরন নির্ধারণ করা হবে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে, যার মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করাও এ চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য।

Leave A Reply


Math Captcha
9 + 1 =