Thursday, October 15

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে রোববার (১১ অক্টোবর) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি। বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে আবারও আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি

ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আইসা, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) ও ক্রান্তিকারি যুব সংগঠনসহ (কেওয়াইএস) বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা বিজয় চক থেকে যন্তর মন্তরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লিজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরে নেহা বোরাসহ অনেককে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নেহা। সেখানে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও আটক ব্যক্তিদের অমানবিক পরিবেশে রাখার অভিযোগ তোলেন।

ভিডিওতে নেহা দাবি করেন, সাধারণ বাসের ভেতরে ছোট ছোট চারটি আলাদা কক্ষ বা ‘সেল’ তৈরি করে সেগুলোকে আটক রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাসের ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ারও পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া বাসে থাকা পুরুষ বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ ও লাথি মেরে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসও ছিলেন। এসএফআইয়ের অভিযোগ, প্রিজন ভ্যানের ভেতরে পুলিশ তাদের কর্মীদের মারধর করেছে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, জন ব্রিটাসকে মারধরের পর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও ধারণের অভিযোগে ফাদার বিজু জেভিয়ার নামে এক ধর্মযাজককেও আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবির মধ্যে ছিল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।

রোববারের বিক্ষোভে ব্যাপক আটক ও পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের পর দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 3