Thursday, October 8

আসন্ন ইসরাইলি সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ও জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিচে দেখা যাচ্ছে, যদিও জরিপভেদে আসনসংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।

নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বড় ইস্যুগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময়কার নিরাপত্তা ব্যর্থতা। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নি’হত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। হামলার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে দেশে রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।

৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

হামলার সময় দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে পদ ছেড়েছেন বা দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। নেতানিয়াহু এখনো ক্ষমতায় থাকায় বিরোধীদের একটি বড় অংশ তার রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইজেনকটও তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেতানিয়াহু অবশ্য নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় এককভাবে নিজের ওপর নেওয়ার পরিবর্তে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে তার সমালোচকেরা হামলার আগে ও পরে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তুতি নিয়ে জবাবদিহির দাবি করছেন।

জরিপে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

আগের নির্বাচনে লিকুদ ৩২টি আসন পেয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন জরিপে দলটিকে প্রায় ২০ থেকে ২২টি আসন পেতে দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৬১টির নিচে থাকছে। তবে সাম্প্রতিক একটি চ্যানেল ১৩ জরিপে তার জোট ৫৫টি আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। ফলে এখনই নির্বাচনের ফল নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা উভয় পক্ষের জন্যই কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

দুর্নীতির মামলাও বড় ইস্যু

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাও নির্বাচনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক বিষয়। ক্ষমতা হারালে বিচারপ্রক্রিয়া মোকাবিলায় তার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাবে। অন্যদিকে নির্বাচনে জয় পেলে তিনি সেটিকে তার নেতৃত্বের পক্ষে জনসমর্থন হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন—এমন বিশ্লেষণও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও টানাপোড়েন

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী সমর্থন দেননি। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও নির্বাচনে তাকে সমর্থনের প্রশ্নে সরাসরি অবস্থান নেননি।

এদিকে ইসরাইলের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, সামরিক সহায়তা এবং অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও নির্বাচনের ফলের পর নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। তবে বর্তমান জরিপগুলোতে কোনো পক্ষই নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবস্থানে নেই। ফলে ভোটের ফলের পাশাপাশি পরবর্তী জোট গঠনের সমীকরণই ঠিক করবে ইসরাইলের পরবর্তী সরকার কার নেতৃত্বে গঠিত হবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস, রয়টার্স

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 3