ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় একটি ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন নি’হত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস ভবন ধসের খবর পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা।
নি’হতদের মধ্যে গোলাফসা নামে ২১ বছর বয়সি এক নারী রয়েছেন। তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ছাড়া ১২ বছর বয়সি এক কিশোরী ও এক শিশুও নি’হত হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
ডিসিপি রাজেন্দ্র প্রসাদ মিনা জানিয়েছেন, নি’হত শিশুদের মধ্যে একজনের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডে হওয়া ভূমিকম্পের কম্পনে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এরপর সম্ভবত সেই ফাটলের কারণেই ভবনটি ধসে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) তথ্যমতে, ভূমিকম্পের পর ভবনটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাড়ির মালিক সেটি খালি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২২৫ বর্গফুট জমির ওপর ভবনটি নির্মিত হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবন ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে সাতজন নি’হত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। সেই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই দিল্লিতে নতুন করে ভবন ধসের ঘটনা ঘটল।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

