সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নি’হত এবং ৩৬ জন আ’হত হয়েছেন। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জাকা) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে।
জাকার তথ্য অনুযায়ী, আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই নারী নি’হত হয়েছেন। তাদের একজন মরক্কোর এবং অন্যজন আলজেরিয়ার নাগরিক। এ ঘটনায় আরও ২৮ জন আ’হত হয়েছেন।
অন্যদিকে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নি’হত হয়েছেন। সেখানে পাঁচ সৌদি নাগরিকসহ আটজন আ’হত হয়েছেন।
জাকা জানিয়েছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রিয়াদের উত্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি রাজধানীতে হামলায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা একটি লঞ্চিং প্যাড ধ্বংস করেছে জোট বাহিনী বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংক ও অন্যান্য স্থাপনার চারপাশে চলতি সপ্তাহে নতুন করে সুরক্ষাবেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছিল, ইয়েমেন থেকে রিয়াদ বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া একটি সন্দেহভাজন হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পরদিন রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
এদিকে ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরেও বুধবার ভোরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের মধ্যে এসব হামলা হয়েছে। চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস। তাদের আরও সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

