Friday, September 18

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। তবে এখন পর্যন্ত এসব দেশের কেউ সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হুতিদের হামলা থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভূখণ্ড রক্ষায় এসব দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী মজুতও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে চাপে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সহায়তা চেয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। বরং ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

হুতিদের সঙ্গে বৈঠক মার্কিন কর্মকর্তাদের

সৌদি আরব যখন সামরিক সহায়তার জন্য মিত্রদের কাছে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ওমানে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে মাসকাটে ওমানের সহযোগিতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তারা মার্কিন নৌযানে হামলার পরিকল্পনা করছে না এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা আপাতত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে গোয়েন্দা ও অন্যান্য সহায়তার মধ্যেই সীমিত রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তুরস্ক-পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তানও হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তবে সামরিক সহায়তার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

তুরস্ক উত্তেজনা কমাতে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানায়নি ইসলামাবাদ।

ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন আলোচনা

এরই মধ্যে হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছ থেকেও সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আঞ্চলিক এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য সহযোগিতার মূল বিষয় হিসেবে হুতিদের সামরিক অবস্থান, অস্ত্র অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।

আই২৪নিউজও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হুতিদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। তবে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশ নিশ্চিত করেনি।

বাড়ছে হুতিদের হামলা

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি দেশটির তেল অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরব মক্কার দিকে হুতিদের একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করলেও হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে এ ঘটনার পৃথক দাবিগুলো নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

একই সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে।

সব মিলিয়ে, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার মধ্যে সৌদি আরব একদিকে মিত্রদের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে। একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার খবর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নতুন মাত্রা সামনে এনেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
62 + = 66