ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক দিন আগে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ওপর দিয়ে রাশিয়ার ১৪টি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট অতিক্রম করেছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। মার্কিন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব স্যাটেলাইটের সংগৃহীত তথ্য ইরানের হাতে পৌঁছে থাকতে পারে এবং তা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়ক হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সম্প্রচারিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রুশ গোয়েন্দা স্যাটেলাইটগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা, সামরিক সম্পদ এবং ঘাঁটির অভ্যন্তরীণ তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব তথ্য ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আরও নির্ভুল হামলা চালাতে সহায়তা করে থাকতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলাকে রুশ স্যাটেলাইট তৎপরতার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে ওই ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক সদস্যরা আহত হন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এডব্লিউএএসিএস) বিমানসহ সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার আগে রাশিয়ার ১৪টি স্যাটেলাইট ওই ঘাঁটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এর মধ্যে অন্তত একটি উন্নত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ছিল। কয়েকটি স্যাটেলাইট উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ধারণে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যগুলো যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সক্ষম ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাও হতে পারে। সংঘাতের অন্যান্য সময়েও রাশিয়া ইরানকে একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। রুশ গোয়েন্দা সহায়তা ব্যবহার করে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানকে সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রাশিয়া অতীতে অস্বীকার করেছে। ফলে রুশ স্যাটেলাইটের গতিপথ ও ইরানের হামলার মধ্যে সরাসরি কার্যকর যোগসূত্র ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরানি শাহেদসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত ঘিরে রাশিয়ার অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের হামলার ক্ষেত্রে রুশ সহায়তার পাশাপাশি চীনা স্যাটেলাইট সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। একটি চীনা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইরান মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে এবং পরবর্তী সময়ে সেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে সিএনএনের অনুসন্ধানে উঠে আসে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

