মক্কার কাছে হুতি ড্রোন ভূপাতিত
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে একটি হুতি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মঙ্গলবার ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বুধবার ভোরে বলেন, ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান এবং সেখানে থাকা মুসল্লি ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মক্কা ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান সেখানে হজ পালন করতে সমবেত হন। আল-মালিকির দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ বলেন, মক্কায় হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে।
মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কাসহ আরও কয়েকটি শহর এর আওতায় রয়েছে। ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলার মধ্যেই এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির পর সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। মার্কিন নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কারণে সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে মুখ করে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি অংশ পরিবহন করা হয়।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে তারা। হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

