Thursday, July 16

মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং দেশটির প্রতি নিজের দৃঢ় সমর্থনের কথা আবারও স্পষ্ট করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটি-তে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

ভাষণে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিলেই তাঁর কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন। কট্টর উদারতাবাদী তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপে-এর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক হওয়ায় তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অভিহিত করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি—জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি—আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশ’-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো—চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনিতেই স্বাধীনতার মূল ধারণা নিহিত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন ও সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু মৌলিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যায় না এবং পশ্চিমা সভ্যতার অগ্রগতির ভিত্তিও এসব নীতিমালা।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তার সমালোচনা করে তিনি ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষ দিকে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন ও রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নীতি অনুসরণ করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরেই তিনি ইসরায়েল সফর করেন। সেখানে ওয়েস্টার্ন ওয়াল-এ প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেম-এ স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

Leave A Reply


Math Captcha
66 − = 56