যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট কাটেনি। অব্যাহত সামরিক অভিযান, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন লাখো মানুষ।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের ১৪ বছর বয়সী কিশোর কারাম, যে একসময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, এখন বাস্তুচ্যুত জীবনে যুদ্ধের ভয়াবহতা বয়ে বেড়াচ্ছে। তার ভাষায়, যুদ্ধের আগে জীবন সুন্দর ছিল, কিন্তু এখন সেই জীবন আর নেই।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অধিকাংশ পরিবার অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার তীব্র সংকট রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ত্বকের সংক্রমণ, পরজীবী এবং ইঁদুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুমন্ত শিশুদের ইঁদুরে কামড়ানোর ঘটনাও ঘটছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
গাজা সিটির পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকায় অনেক মানুষ অস্থায়ী গর্ত ব্যবহার করছেন, ফলে মাটি ও পানির উৎস দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইঁদুর ত্রাণসামগ্রী নষ্ট করায় খাদ্যসংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে, অন্যদিকে হামাসও অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তোলা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে বিধিনিষেধ এবং ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, এ পরিস্থিতিতে গাজার মানুষের দুর্ভোগ আরও গভীর হচ্ছে এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

