Thursday, July 16

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি। তেহরানে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং বাবা ও স্ত্রীর জানাজাতেও অনুপস্থিত ছিলেন।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে আসছেন না। তবে তাঁর তিন ভাই এবং ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে ইরানে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে খামেনির জানাজার দিনই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ইরানি নেতা যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করেন, তবে তাকেও একইভাবে প্রতিহত করা হবে। এর আগে গত সপ্তাহেও কাৎজ জানিয়েছিলেন, মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের নজরদারিতে রয়েছেন।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের দাবি, হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং এটি দেশটির নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে সরকার এখনো দাবি করছে, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
69 − = 60