Thursday, July 16

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ পুনরায় শুরুর হুমকি দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আর কোনো শান্তি আলোচনা হবে না। একই সময়ে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতার সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্যে লাখো-লাখো মানুষ অংশ নিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ করেছেন।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে একটি কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানা গেছে। অপর একটি সৌদি পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার জন্য কাতার ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বারবার সামরিক হামলার হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো নতুন শান্তি আলোচনা শুরু হবে না। তিনি ট্রাম্পকে পূর্ববর্তী সমঝোতার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে প্রথমে হুমকির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে রাজধানী তেহরান ও ধর্মীয় শহর কোমে নিহত সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যে লাখো মানুষ কালো পোশাকে শোক মিছিল করেন। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, নিহত নেতার প্রতিকৃতি এবং প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত ব্যানার। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে জাহাজে হামলার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 5 = 2