Thursday, July 16

ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়নি। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন প্রায় শেষ। তাই বর্তমানে নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে স্বজনদের খোঁজে এখনো বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

ভূমিকম্পের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য একটি নতুন সামরিক ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা প্রায় ৫৯ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

বিদেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার অনেক নাগরিক নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পেতে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাদা-দাদি ধসে পড়া একটি সাততলা ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী ক্রেন ও বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।

ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণ শুরু করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণকাজ শেষ করে বাসিন্দাদের নতুন করে আবাসন বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে আগে থেকেই বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় এই ভূমিকম্প মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দেশটির আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 14 = 24