আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য শোকানুষ্ঠান উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এর আগে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি শুরু হয়। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে সাত দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শোকযাত্রা এবং দাফনসংক্রান্ত কর্মসূচি পালিত হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করতে শুরু করেন। শনিবার ভোরে সেই ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমায়ি হামেদি নামে এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য কষ্টের নয়।”
বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শোকসমাবেশ হতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে জনসাধারণ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন। পরে মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে ইমাম রেজার (আ.) মাজারে দাফন করা হবে।
এদিকে তেহরানে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক অতিথিরা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, ভারতের প্রতিনিধি দল, চীনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

