টানা ভারি বর্ষণে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই, পুনে এবং আশপাশের জেলাগুলোতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, পুনে, থানে, রায়গড় ও পালঘর জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

সোমবার ভোরে কারজাত ও লোনাভালার মধ্যবর্তী ভোরঘাট এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় মুম্বাই-পুনে রেলপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। রেললাইনের ওপর বিশাল পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি লাইনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ডেকান কুইন, ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস এবং সিংহগড় এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয় অথবা বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয়।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির মধ্যেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দ্রুত সচল করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

এদিকে ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরোনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই শহরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের টানেল-২ সংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসে মুম্বাইমুখী সড়ক ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়। একই সময়ে বন্যার কারণে মাভাল ও তামহিনি ঘাট হয়ে চলাচলকারী বিকল্প সড়কগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু

ভারি বর্ষণের কারণে মুম্বাই মহানগর অঞ্চলে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

মানখুর্দ এলাকায় তিনতলা একটি চাওল ভবন ধসে ৬ জন নিহত হন। কুরলায় রাস্তার পাশের একটি দোকানের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। চেম্বুরে একটি স্কুলবাসের ওপর গাছ পড়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। সাকি নাকায় বন্যার পানিতে ঢেকে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খারঘরের নিষিদ্ধ পান্ডাভকাড়া জলপ্রপাতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

স্কুল-কলেজ বন্ধ, ট্রেন চলাচলে বিলম্ব

ভারি বৃষ্টির প্রভাবে মুম্বাইয়ের উপশহরীয় রেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেনগুলো বিলম্বে চলাচল করছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের ট্রেনগুলো ৬ থেকে ৮ মিনিট এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরিতে চলছে।

পরিস্থিতির কারণে মুম্বাই, পুনে, থানে ও নবি মুম্বাইয়ের স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ডাব্বাওয়ালারাও এক দিনের জন্য তাদের খাবার সরবরাহ সেবা স্থগিত রেখেছেন।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 45 = 46