ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন দেশের এই অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে ‘একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি’ হয়ে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে আরব বিশ্বের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা তেহরানে এসেছেন। তাঁদের এই উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে এবং দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

এদিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে তেহরান। তবে সাম্প্রতিক সংকটকালে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই সেখানে নিরাপদ নৌযান চলাচল, জাহাজ তদারকি এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। তবে এটি কোনো টোল বা জোরপূর্বক কর নয়, বরং সেবাভিত্তিক একটি ফি।

তিনি আরও জানান, নতুন এই ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে ইরান ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর লক্ষ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ফি আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তবে দুই দেশের সাম্প্রতিক সমঝোতা অনুযায়ী প্রথম ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। এরপর কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি বলেন, কঠিন সময়ে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, নতুন সার্ভিস ফি কার্যকর হলে তাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
6 + 4 =