ভারতের পাঞ্জাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ও মেকআপ আর্টিস্ট ম্যাড সান্ধুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকেলে অমৃতসরে মোটরসাইকেলে আসা দুই বন্দুকধারী খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা সান্ধুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃ’ত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গোল্ডি ঢিলন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে সান্ধুর জীবনযাপন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তিকর দাবি করা হয়।
তবে পোস্টটি সত্যিই হত্যাকারী বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ পোস্টটির সত্যতা, এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিতি
ম্যাড সান্ধুর প্রকৃত নাম মধুসূদন। ফ্যাশন স্টাইলিস্ট ও সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব পডকাস্টের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান। পাঞ্জাবি সিনেমা ‘ওয়ে ভোলে ওয়ে’-তেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।
নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ্যে তুলে ধরতেন সান্ধু। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত কটূক্তি ও সমকামভীতিমূলক ট্রলের মুখে পড়তে হতো বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের পরিচয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলতেন, ‘ঈশ্বর আমাকে যেভাবে বানিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি সেভাবেই বাঁচব।’
পাঞ্জাবে ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ
পাঞ্জাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুনে ‘কামাল কৌর ভাবি’ নামে পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার কাঞ্চন কুমারীকে হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসে। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একজন অভিযুক্তকে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সান্ধুর হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগেই পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় এক যুবককে গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
পরপর এসব সহিংস ঘটনায় পাঞ্জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ম্যাড সান্ধুর হত্যার ঘটনায় পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

