Friday, October 9

অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি স্বীকৃতি পেলেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য কানাডার মিসিসাগায় অনুষ্ঠিত মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

‘রইদ’ সিনেমায় তুষির অভিনয়ে চরিত্রটির আবেগ, টানাপড়েন ও অসহায়তা ফুটে উঠেছে সংযত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে। অনেক দৃশ্যে সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা ও মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে চরিত্রটির অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি তার অভিনয়ের সেই পরিণত প্রকাশেরই স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হয় ৪ অক্টোবর। এবারের আয়োজনে ‘রইদ’ সেরা অভিনেত্রী ছাড়াও চিত্রগ্রহণ ও সংগীত বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে।

উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে নেপালের ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’। সিনেমাটি পরিচালনার জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন অবিনাশ বিক্রম শাহ। একই সিনেমা সেরা সম্পাদনার পুরস্কারও পেয়েছে। ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি প্রাইজও পেয়েছিল ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’।

‘রেহমত’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পারফরমারের স্বীকৃতি পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।

মোজাইক আন্তর্জাতিক সাউথ এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারের বিজয়ী চলচ্চিত্র, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা বলেন, নির্মাতা ও শিল্পীদের গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলী এবারের উৎসবকে বিশেষ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক উৎসবে ‘রইদ’

এদিকে স্পেনের বার্সেলোনায় কাসা এশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে ‘রইদ’। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানান নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।

এর আগে ৫৫তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক উৎসবযাত্রা শুরু করে ‘রইদ’। পরে সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। সম্প্রতি ভিয়েতনামের চতুর্থ দা নং এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচক বিভাগে সেরা এশীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কারও অর্জন করেছে এটি।

৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বঙ্গ ও ফেসকার্ড প্রযোজিত ‘রইদ’।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চিত্রায়িত সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে দরিদ্র বর্গাচাষি সাদু ও তার স্ত্রীকে ঘিরে। নববিবাহিত দম্পতির জীবন, গ্রামীণ সমাজ, রহস্য এবং বাস্তবতা ও মিথের মিথস্ক্রিয়া জাদুবাস্তবতার আবহে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে।

চিত্রনাট্য লিখেছেন সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন ও সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছেন সুমন

চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারও পাচ্ছেন মেজবাউর রহমান সুমন। আগামী ২৬ অক্টোবর ফজলুল হকের প্রয়াণ দিবসে চ্যানেল আই স্টুডিওতে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় এবার এ পুরস্কার পাচ্ছেন মাহমুদা চৌধুরী। পুরস্কারের সঙ্গে অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট দেওয়া হবে।

দেশের প্রথম চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর নির্মাতা প্রয়াত ফজলুল হকের স্মরণে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর দুজনকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন।

Leave A Reply


Math Captcha
3 + 7 =