কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি কয়েকটি ব্যাংক নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরবর্তী আধা ঘণ্টার মধ্যে এসব তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
তবে ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য তলবের কারণ সম্পর্কে বিএফআইইউর চিঠিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
স্টুডিওতে হামলার পর আলোচনায় সালমান
সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ হাউজিং কমপ্লেক্সের ভেতরে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির হামলার জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। তবে একই লাইভে তিনি জানান, সরাসরি কেউ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেননি।
অন্যদিকে পুলিশ সালমানের চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং হামলাকারীদের মূল লক্ষ্যও সালমানের স্টুডিও ছিল না।
এদিকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সালমান নিজের ফেসবুক পেজে নতুন একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজের অফিস ও স্টুডিওতে হামলার ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও সালমান মুক্তাদিরসহ ব্যাপক অনুসারী থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন।
বিএফআইইউর তথ্য তলবের সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। সংস্থাটির চাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানা যায়নি।

