Friday, October 23

এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরীমনিকে জড়িয়ে কিছু ভুয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিংয়ের কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এবার এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এআই ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তা দিয়ে কাউকে হেয় করার প্রবণতার সমালোচনা করেন এই অভিনেত্রী।

মেহজাবীন লেখেন, “এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।”

শুধু ভুয়া কনটেন্ট তৈরিকারীদের নয়, সেসব কনটেন্ট শেয়ার করা মানুষের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, একই কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ ছড়িয়ে দেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজনের অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তখন প্রশ্ন জাগে, সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি?”

ভিউ-লাইক বাড়াতে অন্যের অসম্মান কেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লিকবেইট, ভিউ, লাইক ও শেয়ারের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন এবং আয় করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কনটেন্ট তৈরি অনেকের জীবিকা হলেও অন্য একজনের অপমান ও অসম্মানকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা, হয়তো সেখান থেকে কয়েকটা ডলার আয়… মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে, কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা। কিন্তু কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?”

বিষয়টিকে কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিকভাবে মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী।

তিনি মনে করেন, কাউকে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের মা বা বোনের সঙ্গে তুলনা করার প্রয়োজন নেই। একজন মানুষ হিসেবেই প্রত্যেকের সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ভুয়া কনটেন্ট শেয়ারকারীদের প্রতিও বার্তা

ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তা স্বেচ্ছায় শেয়ার করে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেহজাবীন।

তিনি লেখেন, “আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় সেটি শেয়ার করছে, আলোচনা করছে এবং আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।”

এ ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার আগে নিজের বিবেক ও দায়িত্ববোধের কথা ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে কেউ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।

এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতার এই সময়ে ভুয়া কনটেন্টের বিস্তার এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে মেহজাবীনের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
9 + 1 =