Thursday, November 5

মেয়েদের পোশাক নিয়ে সমাজের কটাক্ষ এবং নারীদের ‘কী পরা উচিত’ এমন মানসিকতার বিরুদ্ধে বরাবরই সরব অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। এবারও একই প্রসঙ্গে মুখ খুলে তিনি বলেছেন, সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি সহজে বদলাবে না। পরিবর্তন আনতে হয়তো কয়েক প্রজন্ম সময় লেগে যেতে পারে।

সম্প্রতি তার আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘চুম্বক’-এর প্রচারে গিয়ে নারীদের পোশাক নিয়ে সমাজের মানসিকতা প্রসঙ্গে কথা বলেন নীনা। দিল্লির সীতারাম বাজারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখনও এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে নারীদের ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার প্রত্যাশা করা হয়।

নীনা গুপ্তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় এটা এমনই থেকে যাবে। বদলাবে না। একেবারেই না। কারণ সমাজটাই এমন। আজও খুব একটা কিছু বদলায়নি।’

অভিনেত্রীর মতে, সমাজে যতটুকু পরিবর্তন এসেছে, তা খুবই সামান্য। তার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মেয়েরা এখন নিজেদের উপার্জন করছেন। তবে শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই নারীদের সম্মান করতে শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীনা। তার মতে, সামাজিক পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে হয়তো এক-দুই নয়, তিন-চার প্রজন্ম সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে এখনও ছেলেদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের এক বান্ধবীর অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন নীনা। তিনি জানান, তার এক বান্ধবী স্প্যাগেটি-স্ট্র্যাপ ব্লাউজ বানাতে এক দর্জির কাছে গিয়েছিলেন। ব্লাউজের গলার কাট প্রায় ১০ থেকে ১১ ইঞ্চি রাখার কথা ছিল। কিন্তু মাপ নেওয়ার সময় দর্জি আপত্তি জানিয়ে ওই নারীকে বলেন, ‘তাহলে ব্লাউজই পরবেন না।’

এর আগেও পোশাক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীনা গুপ্তা। ২০২২ সালে নিজের একটি পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রোল হওয়ার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কারও পোশাক দেখে তার যোগ্যতা বিচার করা উচিত নয়। সে সময় নিজের সংস্কৃতে এমফিল করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন অভিনেত্রী।

এদিকে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের কয়েকদিন পরই নীনার এই মন্তব্য সামনে এসেছে। রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড পরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়। বিতর্কের মধ্যে কৃতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কবে নারীদের কী পরা উচিত, তা বলা বন্ধ করা হবে।

কৃতির বক্তব্য ছিল, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একজন নারীর হৃদয়ে থাকে, পোশাকের গলার কাটে নয়।

কৃতি শ্যাননের পোশাক বিতর্কের আবহে নীনা গুপ্তার মন্তব্য নতুন করে সামনে আনল নারীর পোশাক, স্বাধীনতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক।

Leave A Reply


Math Captcha
5 + 1 =