বগুড়া সদর উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। বিজ্ঞাপনঅভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. মাহফুজার রহমান (৫০)। তিনি বগুড়া পৌরসভার ১৯নং ওয়ার্ডের শঠিবাড়ী (সাবগ্রাম) এলাকার মৃত হবিবর রহমানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাহফুজার রহমান ভুক্তভোগীর দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকালে ওই কিশোরী তার দাদির সঙ্গে দেখা করতে কুরশা শঠিবাড়ী গ্রামে যায়। ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে মাহফুজার রহমান কৌশলে কিশোরীকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। বিজ্ঞাপনভুক্তভোগী কিশোরী জানান, ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য মাহফুজার তাকে বিভিন্ন হুমকি দেন এবং হাতে মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। লোকলজ্জা ও প্রাণের ভয়ে ওই কিশোরী এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল। পরবর্তীতে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে সে তার নানিকে সব খুলে বলে। বর্তমানে ওই কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মাহফুজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিজ্ঞাপনবগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
© 2026 Dhaka Report. Designed by Ashraful Sarkar.

