Friday, September 18

বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন নিজুমের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের এক মাস পর নাজিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাজিম নিহত নিজুমের বন্ধু। পুলিশের দাবি, ধার দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে চেতনানাশক ও বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে নিজুমকে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মাদনাই এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি সংস্থায় রাঁধুনি হিসেবে কাজ করতেন।

নিহত ওয়াহেদ হোসেন নিজুম (৩৭) বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে ফলের ব্যবসা করতেন।

গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম দিঘিরপাড় এলাকার একটি ধানখেতের পাশ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ওয়াহেদ হোসেন নিজুমের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াহেদ এনজিও সংস্থা আশা থেকে তার মা রঞ্জনা বেগমের নামে ৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা তিনি বাবাকে ব্যবসার কাজে দেন। বাকি ৩ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা স্বপন (২৮) এবং ১ লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পুলিশের ভাষ্য, এই বিরোধের জেরে নাজিম ও তার বন্ধু স্বপন ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ আগস্ট তারা ওয়াহেদকে আশার মালগ্রাম শাখা কার্যালয়ে ডেকে নেন। হত্যার আগে নাজিম ইন্টারনেটে অচেতন করার ওষুধের নাম খোঁজেন বলে দাবি পুলিশের।

পরে ওই ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ কোমল পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে ওয়াহেদকে খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে মরদেহ বস্তায় ভরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দিঘিরপাড় এলাকার একটি ধানখেতের পাশে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর ৮ আগস্ট নাজিম ও স্বপন চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, মুঠোফোনের কল রেকর্ড, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং স্থানীয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম ইন্টারনেটে চেতনানাশক ওষুধের নাম খোঁজার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন গতকাল বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে নাজিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছিল। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 4