নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফুটবল অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে ১৬ বছর বয়সী এক নারী ফুটবলারকে ইজিবাইক থামিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান (৩৬) নামে ওই ইজিবাইকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাহমুদুল হাসান নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নান্দাইল সদর এলাকায় কিশোরী ফুটবলার ও তার সতীর্থরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে রোববার রাতে নান্দাইল মডেল থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরে ভুক্তভোগী কিশোরী ময়মনসিংহের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি গত পাঁচ বছর ধরে নান্দাইল উপজেলা ফুটবল একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছেন। গত বছর তিনি অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন। প্রতিদিন জাহাঙ্গীরপুর থেকে নান্দাইল সদরে এসে অনুশীলন শেষে সন্ধ্যায় ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরতেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল অনুশীলন শেষে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই কিশোরী। পথে শেরপুর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে চালক মাহমুদুল ইজিবাইক থামান। পরে তিনি কিশোরীকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, “পরিকল্পিতভাবে মাহমুদুল আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আমি বিচার চাই।”
মামলার বাদী ও কিশোরীর বড় ভাই বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কেন আমার বোনের সঙ্গে এমন কাজ করা হয়েছে? অনেক কষ্ট করে বোনকে ফুটবলার বানানোর চেষ্টা করছি।”
তবে মাহমুদুলকে ফাঁসানো হয়েছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, নারী ফুটবলারকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাহমুদুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

