সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক রেহানা পারভীনকে হ’ত্যার পর আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে হ’ত্যা ও ম’রদেহ গুমের এমন বিবরণ উঠে এসেছে।
তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান খান। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। ২৯ জুন তাঁর স্বামী আওলাদও দেশে ফেরেন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই অসুস্থ রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এরপর আওলাদের চাচা আমজাদ হোসাইন ও চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন রেহানার হাত-পা চেপে ধরেন। একপর্যায়ে আওলাদ তাঁর পেটের ওপর উঠে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হ’ত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার ম’রদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। ঘটনা গোপন রাখতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
রেহানা নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মা আইরিন আক্তার ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় অপহরণ মা’মলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে আশুলিয়ায় পাপিয়ার বাড়ির সামনে মাটির নিচ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রেহানার ম’রদেহ উদ্ধার করে। এরপর অপহরণ মা’মলাটি হ’ত্যা মা’মলায় রূপান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তে পাপিয়া, কবীর ও আমজাদকে গ্রে’প্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হ’ত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি স্ত্রীকে হ’ত্যার তদন্ত প্রভাবিত করতে বাংলাদেশে ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাঁকে গ্রে’প্তার করেছে। এএফপির অভিযোগ, বাংলাদেশে তদন্তের গতিপথ প্রভাবিত করতে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তিনি ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন।
বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায়ও তদন্ত চলছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে করা মা’মলায় আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন এবং পাপিয়া ও মাকসুদা জামিনে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণের পর পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।

