Wednesday, October 7

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি মদের বারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে বারের আশপাশে মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাতলামি বেড়ে যায়। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বার পরিচালনা বন্ধে কয়েক দফায় লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বারের মালিক রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বারের মালিক কাজী মিনহাজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বারের আশপাশে নারী-পুরুষের আড্ডা বাড়তে থাকে। তাদের কেউ কেউ মদ্যপ অবস্থায় রাস্তায় উচ্চস্বরে কথা বলা, গালাগালি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

লালমাটিয়া এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আফজাল বারী বলেন, স্কুল ছুটির পর অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। তার অভিযোগ, বারের আশপাশে মাদকসেবীদের প্রকাশ্য আচরণ ও ধূমপানের কারণে তাদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

একই এলাকার বাসিন্দা জেসমিন জাহান বলেন, সন্ধ্যার পর সন্তানদের নিয়ে ওই পথ দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার ভাষ্য, বারের আশপাশে মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাতলামির কারণে পথচারীদের সঙ্গে প্রায়ই ধাক্কাধাক্কি এবং বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটির সভাপতি বেলাল আহমেদ বলেন, বারের কারণে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তার কাছে অভিযোগ করেছেন। তাদের অনুরোধে তিনি কয়েক দফা বার মালিক ও ভবন মালিককে লিখিত নোটিশ দিয়েছেন। তবে এরপরও বার বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বেলাল আহমেদ বলেন, লালমাটিয়ায় বারের কাছেই তিন থেকে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুরো এলাকায় রয়েছে আরও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে পরিচালিত বারটি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বারটির মালিক কাজী মিনহাজুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কয়লা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের সিইও শামীম চৌধুরী বলেন, লালমাটিয়ার ওই বারের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বারটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে বা এর কোনো অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, লালমাটিয়ার ওই বার সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। বার-সংক্রান্ত বিষয়টি মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেখার বিষয়। তারা পুলিশকে জানালে অভিযানে সহযোগিতা করা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের উপপরিচালক (অপারেশন) মো. রাজিউর রহমান বলেন, লালমাটিয়ার ওই বার তাদের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স নেয়নি। আদালত থেকে একটি অনুমোদন নিয়ে তারা বার পরিচালনা করছে বলে অধিদপ্তর জানতে পেরেছে। তবে লালমাটিয়া এলাকার ঠিকানায় বার পরিচালনার অনুমোদন নেই।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় বার পরিচালনার বিষয়ে আদালতকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 3