রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনাসদস্যসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কয়েকজন অতীতে র্যাবেও কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—তানভীর আবেদীন (৪১), মো. মজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।
রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
তিনি জানান, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল। টাকা নিয়ে পালানোর সময় ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার মুজিবুর রহমান ও তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক ও অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। তানভীর আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের চারটি মামলা, সজল চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই ধরনের ছয়টি মামলা, জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা/হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা এবং আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নয়জনের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তারা হলেন মো. মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির এবং মো. সোলায়মান মৃধা। মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে, জাকির হোসেন অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে এবং সোলায়মান মৃধা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর নেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে র্যাবেও কর্মরত ছিলেন।
যেভাবে পরিকল্পনা করে ডাকাতি
ব্রিফিংয়ে যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডির একটি স্থানে দেখা করতে যান। স্বর্ণের লেনদেনের কথা বলে পরিকল্পিতভাবে তাকে রিকশাযোগে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় আগে থেকেই লেলিনের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজনের একটি দল অবস্থান করছিল। তাদের দেওয়া সংকেত অনুযায়ী চক্রের অন্য সদস্যরা রিকশাটির গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির কয়েকজন স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তারা স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে স্বর্ণ বিক্রির প্রস্তাব দেন। এরপর ক্রেতাকে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে আসতে বলা হয়। লেনদেনের জন্য অন্য স্থানে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতি করা হতো।

