Saturday, August 8

পটুয়াখালী: পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও অভিযোগ

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার একমাত্র আসামি মো. শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় সাত বছর আগে বাদীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সে সময় অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৪ মার্চ সকালে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে নিজের বোনের বাসা দেখানোর কথা বলে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে বিয়ে ও নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তিনি সন্তান জন্ম দিতে চাইলে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফিরলে ওই নারী জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

আইনজীবী, পুলিশ ও জামায়াতের বক্তব্য

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহর এনে বারবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোর করে গর্ভপাত করানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, যেহেতু বিষয়টি এখন বিচারাধীন, তাই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষী সাব্যস্ত করলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “এখনো আদালতের আদেশের অফিশিয়াল কপি হাতে পৌঁছায়নি। লিখিত নির্দেশ পেলেই আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave A Reply


Math Captcha
39 − 36 =