মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন, সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা ক্ষমতায় ছিল, সেই ক্ষমতা হারিয়ে তারা এখন অস্থির হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে অনুষ্ঠানটি বানচালের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘মব কালচার’-এরই একটি উদাহরণ, যার ফলে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল সমগ্র দেশের মানুষের আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, তাদের পক্ষ থেকে ইতিহাস বিকৃতির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ইতিহাস বিকৃত করে কিছু প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, আন্দোলনে অন্যদের অবদান সরকার কখনো অস্বীকার করেনি এবং করবে না। তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে আন্দোলন করেছিলেন এবং সেই অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃত।
প্রতিবাদ জানানোরও একটি সভ্য ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্টরা সেই পথ অনুসরণ না করে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন।
শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নানা অভিযোগ পেয়েছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কিছু অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তার ভাষ্য, শহীদদের কবর নির্মাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তিনি শুনেছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে গিয়ে একটি পক্ষ প্রয়োজনে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করতে প্রস্তুত।

