ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিনে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর হাতে ২০ টাকা ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
একই সাথে বিষয়টি নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে মারধরের অভিযোগে মো. বাচ্চু (৫০) নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার মো. বাচ্চু হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে কৌশলে বিদ্যালয়ের ৩য় তলার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন। ঘটনাটি কাউকেই না জানাতে এবং ভয় দেখাতে শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি। শিশুটি বাড়ি ফেরার পর তার অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে স্বজনরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়।
পরে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানান। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা রাজি না হলে বাচ্চু মেম্বার ও তার লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তারা শিশুটির স্বজনদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর দাদি বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ঘটনায় প্রধান আসামি প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং তাকে সহায়তাকারী ও অর্থ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারী সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটির পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

