Sunday, September 27

ঢাবি প্রতিনিধি

বিভাগীয় পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে ভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে একজনকে ‘পরীক্ষা + ২’ এবং অপরজনকে ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত এক সিন্ডিকেট সদস্য শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুগল জেমিনি ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতহুন কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা + ২’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন পরীক্ষা চলাকালে দুই পায়ের মাঝখানে মোবাইল ফোন রেখে জেমিনিতে প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিলেন ফাতহুন। সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে তাঁর উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। পরে জেমিনিতে পাওয়া উত্তরের সঙ্গে তাঁর খাতায় লেখা দুই লাইনের হুবহু মিল পাওয়া যায় বলে জানায় বিভাগ।

শাস্তি হিসেবে ওই পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী আরও দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

অন্যদিকে, একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌসকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের অভিযোগে ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য।

জানা যায়, বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে বের হন ফেরদৌস। পরে বিভাগের করিডোরে থাকা এক শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন।

শাস্তির আওতায় ওই কোর্সের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ফেরদৌসকে।

ফাতহুন কারিব চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফেরদৌস। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের রাত থেকে তাঁর ছোট ভাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। পরীক্ষার দিন সকালে বাড়িতে ফোন করে ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ পান। এ কারণে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

ফেরদৌসের ভাষ্য, পরীক্ষা চলাকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি হল থেকে বের হন। এ সময় বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে তাঁর ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে কল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পরে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করেছিল। পরে সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদন করা হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
4 + 5 =