রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত টিমও যোগ দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ৫০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন এখনো সম্পূর্ণ নেভেনি। ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে, থেমে থেমে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গোডাউন থেকে ছড়ানো বিষাক্ত গ্যাসের কারণে আশপাশের কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
এদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মরদেহ এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ শনাক্তে স্বজনদের শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট। তবে কবে নাগাদ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে—তা নিশ্চিত করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। এই ধীর আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
জানা গেছে, গত বুধবার ছয়টি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বাকি ১০টির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গার্মেন্টস প্রিন্টিং কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। সংবাদ পাওয়ার পর সকাল ১১টা ৫৬ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে একে একে যোগ দেয় আরও ১২টি ইউনিট। এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ওইদিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কয়েক ঘণ্টা পর একই ঘোষণা দেয় বিএনপিও।

