Thursday, July 16

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় বিচারক পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১১ নভেম্বর।

এদিন সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানো অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— মো. ইব্রাহীম খলিল বিপুল, মো. আব্দুস সবুর, ছানোয়ারা খাতুন, মেহেদী হাসান আকাশ, এ কে এম আকতারুজ্জামান, কে এম রাশেদ, মেরিনা খাতুন মেরি, সুশান্ত ভৌমিক, নিজাম বারী, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ আনিচুজ্জামান আনিচ, আকরামুল আলম, নুর উন নবী মন্ডল দুলাল মাস্টার্স, সাইফুল ইসলাম সর্দার, কাজী আবুল কালাম, মোছা. ফেন্সী, কে এম শাহ নেওয়াজ ওরফে শিবলু, রফিকুল ইসলাম, জিন্নাত সুলতানা ঝুমা, মেহেদী হাসান ঈশান ওজনি চন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার পটভূমি

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইনে আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং গৃহযুদ্ধের ডাক দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন অংশগ্রহণকারীরা।

মোট ৫৭৭ জন দেশ-বিদেশ থেকে ওই বৈঠকে যোগ দেন এবং বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেবেন না বলে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম ওই মিটিংয়ের হোস্ট ছিলেন।

২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে গত ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

উল্লেখযোগ্য আসামির নাম

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—

  • ড. রাব্বি আলম (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি)
  • কবিরুল ইসলাম (জয় বাংলা ব্রিগেড সদস্য)
  • অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম
  • সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার
  • সাবেক এমপি পংকজ নাখ
  • প্রফেসর তাহেরুজ্জামান
  • আওয়ামী লীগ নেতা সাবিনা ইয়াসমিন
  • ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন
  • আরও অনেকে

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
5 + 4 =