Saturday, August 8

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:
গত বছরের ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নদীপাড়ের বাসিন্দারা। ওই সময় দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছপালা ও জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এরই মধ্যে চলতি বর্ষায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে কয়েকটি স্থানে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে একপর্যায়ে প্রায় ২০ ফুট জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। প্রতিদিনই সামান্য সামান্য করে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে জমি। এতে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পদ্মার ভাঙন রোধে জাজিরা উপজেলার নদীতীর এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের আশা ছিল, বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হবে। তবে বাস্তবে তা হয়নি। কোথাও ধীরগতিতে কাজ চলছে, আবার কোথাও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শেষ হয়নি। ফলে পদ্মার বাড়তি স্রোতের মুখে বেশ কিছু এলাকা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ভয়াবহ ভাঙনের পর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত কাজ শেষ করা হয়নি। বর্ষার শুরুতে পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাথুরিয়া এলাকার কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পালেরচরের বাসিন্দা আনিস উজ্জামান রনি বলেন, “এ বছরও পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। কাথুরিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন একটু একটু করে নদী ভাঙছে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিক, যাতে গত বছরের মতো আর কোনো পরিবার সর্বস্ব হারাতে না হয়।”

পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী বলেন, “গতকাল জুমার নামাজের আগে হঠাৎ করেই প্রায় ২০ ফুট জায়গা পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই এ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন।”

পাউবো শরীয়তপুর সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার নদীতীর রক্ষায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা। প্রকল্পের একটি অংশের নকশা পরিবর্তন এবং প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে সময় লাগায় নির্ধারিত সময়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ পিছিয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে চলতি বর্ষায় পদ্মার পানি ও স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত তীর রক্ষা কাজ শেষ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে প্রতি বছর নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে না হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 1