Saturday, November 7

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে আসা শরণার্থীদের জন্য আইনসভার ১২টি আসন সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয় অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলোর জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। এরপরই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।

কর্তৃপক্ষ সংগঠনটির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী আঞ্চলিক রাজধানী মোজাফফরাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের একটি বহর বর্তমানে রাওয়ালকোট শহরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মোজাফফরাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ আগামী ২৭ জুলাইয়ের স্থানীয় আইনসভা নির্বাচন। বর্তমানে আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসন ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংরক্ষিত আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং কাশ্মীর বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এগুলো প্রয়োজন।

এদিকে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সর্বোচ্চ আদালতও এক পরামর্শমূলক মতামতে জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনগুলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা জনচাপের মুখে বাতিল করা যাবে না।

উল্লেখ্য, কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে। উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে, যদিও বর্তমানে অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশ দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
68 − 63 =